ডমিনেজ স্টিলের ১৫৬ কোটি টাকার লেনদেন

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস লিমিটেডের গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে ১৫৬ কোটি ৪০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মোট লেনদেনের ৩ দশমিক ৭৭ শতাংশই ছিল কোম্পানিটির দখলে। সপ্তাহ শেষে শেয়ারটির দর ৭০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) ডমিনেজ স্টিলের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১৭ পয়সা, যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছিল ১১ পয়সা।

সম্প্রতি ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমসের মালিকানা বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। ডমিনেজ স্টিলের বর্তমান পর্ষদের কাছে থাকা কোম্পানিটির ৩০ শতাংশ বা ৩ কোটি ৭ লাখ ৮০ হাজার শেয়ার অফ-মার্কেট লেনদেনের মাধ্যমে আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারিত মূল্যে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কোম্পানিটি এ শেয়ার স্থানান্তরের অনুমতির জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে আবেদন জমা দেবে। ডমিনেজ স্টিলের বর্তমান পরিচালকরা তাদের শেয়ার বিক্রির লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ক্রেতা-আকিজ রিসোর্সেস লিমিটেড, শেখ জসিম উদ্দিন ও ফারিয়া হোসেনের সঙ্গে শিগগিরই একটি বিক্রয় চুক্তি সম্পন্ন হবে।

ডমিনেজ স্টিলের কারখানার কার্যক্রমের অবস্থা যাচাই করতে গত বছরের ৩ ও ৪ নভেম্বর ডিএসইর একটি পরিদর্শক দল কোম্পানিটির সাভারের আশুলিয়ায় ও নরসিংদীর পলাশে অবস্থিত কারখানা পরিদর্শন করে। পরিদর্শনে আশুলিয়া ইউনিটটি সচল থাকলেও পলাশ ইউনিটের কার্যক্রম বন্ধ পেয়েছে ডিএসইর কর্মকর্তারা। উৎপাদন কার্যক্রম আংশিক বন্ধ থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারে ডমিনেজ স্টিলের শেয়ারদর ও লেনদেন অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। তবে শেয়ারদর ও লেনদেন বাড়ার পেছনে কোনো ধরনের মূল্যসংবেদনশীল তথ্য নেই বলে ডিএসইর চিঠির জবাবে সম্প্রতি জানিয়েছে কোম্পানিটি।

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে উদ্যোক্তা পরিচালক বাদে অন্যান্য বিনিয়োগকারীর জন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ডমিনেজ স্টিলের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ পয়সা।

সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে উদ্যোক্তা পরিচালক বাদে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের দশমিক ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে ডমিনেজ স্টিলের ইপিএস হয়েছে ৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ১৩ পয়সায়।

সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে ডমিনেজ স্টিলের ইপিএস হয়েছে ৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫৫ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ১৪ পয়সায়।

সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে ডমিনেজ স্টিলের ইপিএস হয়েছে ৫৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ১৭ পয়সা। ৩০ জুন ২০২২ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ২৩ পয়সায়।

২০২০ সালের ২ ডিসেম্বর দেশের পুঁজিবাজারে ডমিনেজ স্টিলের লেনদেন শুরু হয়। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১৫০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১০২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৭৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১০ কোটি ২৬ লাখ। এর ৩০ দশমিক ২০ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৩ দশমিক ৩৩, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক শূন্য ৬ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৫৬ দশমিক ৪১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

আরও